দৈনিক সময়ের বার্তা, স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জ পৌরসভার পোড়রা এলাকায় বাড়ি নির্মানের চাঁদা না দেওয়ায় এক গৃহবধুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০ হাজার টাকা নগদ ও ৪০ হাজার টাকার একটি চেক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এঘটনায় মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসাইন খান সাকিবসহ ৬জন ও অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে সদর থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধু দিলারা প্রিয়া।

বখাটে সাকিব মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এহতেশাম হোসেন খান ভুনুর ছেলে। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন ইমরান, নিলয়, সাগর ও জুয়েল।

ভুক্তভোগী গৃহবধু জানান, পোড়রা এলাকায় ওই গৃহবধু তিনতলা বাড়ি করছেন। আসামীরা বাড়ি করার কারণে ওই গৃহবধুর কাছে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। গত সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ওই চাঁদার টাকা দাবী করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা তাকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে তিনি ভীত হয়ে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। আসামীরা তাকে হুমকি দিয়ে উত্তরা ব্যাংক মানিকগঞ্জ শাখার (হিসাব নং- ০০১১১০০১২১৪৪৭) একটি চেকে ৪০ হাজার টাকা লিখে জোড় করে স্বাক্ষর নিয়ে চলে যায়। চেক নং-০৪০৬১৪৯।

তিনি আরো জানান, সাকিব নামের ওই ছেলেকে আমি চিনতে পেরেছি সে জেলা আওয়ামিলীগ এর দপ্তর সম্পাদক ইশতেহাম আহমেদ ভুনু সাহেবের ছেলে। যাবার সময় তারা বিষয়টি কাউকে না জানানো জন্য হুমকি দিয়ে যায়। পরের দিন তিনি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নিলয় নামের একজন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান সাকিব নিয়মিতভাবে দোকান থেকে জোর পূর্বক চাদা সংগ্রহ,মাদক ব্যাবসা এবং সেবনের সাথে সরাসরি জড়িত।

অভিযুক্ত সাকিব তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ বুলবুলের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে (০১৭২৫-৬৮৭ ৮২৪) ফোন করা হলে,তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে তাকে ফোন দিলে পাওয়া যায়নি।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By

Leave a Reply

Your email address will not be published.