দৈনিক সময়ের বার্তা, নাজমুল মোল্লা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ। তবে সীমিত আকারে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে। অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি ও পার্ট টাইম চাকরি হারিয়ে রীতিমতো পরিবার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তারা যা উপার্জন করত তা এখন বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর ঘরে খাবার ব্যবস্থাও নেই। এদিকে সেশনজট ঠেকাতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনায় শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। ইন্টারনেট সহজলভ্য না হওয়ায় ডাটা কিনতে অসমর্থ অনেক শিক্ষার্থী। অনেকের নেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ। অর্থাভাবে ক্লাসে সংযুক্ত হতে পারছেনা তারা।

এসব নিয়ে শিক্ষার্থীরা সাহায্য কামনা করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পায়নি। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যাম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মহামারি করোনার মধ্যেই বন্যার কবলে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খোঁজ নেয়নি বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যপারে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আইন ও ভূমি ব্যাবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া কুন্ডু বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের শুরু থেকেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন নানাভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে আসছে। আর্থিক সহায়তা, নেট খরচ, ও বিনাসুদে ক্ষুদ্রঋণ পাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব নিয়ে কোন মাথা দেখছি না।’ এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও বিশেষ সুবিধা পেয়েছে ক্যাম্পাসে কর্মরত দিন মজুররা।

জানা গেছে, নিজস্ব জনবলের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন ৭০ জন কর্মচারী। তাদের একটি একটি বড় অংশ স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থী। কাজ করলে টাকা পাবে নচেৎ নয় এই ভিত্তিতে কাজ করেন তারা। করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তাদের কাজও বন্ধ হয়ে যায়। সীমিত আকারে অফিসসমূহ খোলা থাকায় ১৪ জন কর্মচারী এই সময়ে কাজ করেছেন। তবে বাকিরা কাজ না করলেও অর্থ সহায়তা পেয়েছে। রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন দিনমজুরকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ৫ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে দিনমজুরেরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন খরচের যে খাত রয়েছে সেখান থেকেই দিনমজুদেরকে এ সহায়তা করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে কিছু অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.