মাইনুল হাসান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

শেষমেশ অবসান ঘটলো বরগুনার আমতলী উপজেলা ইউএনও মনিরা পারভীন এবং আমতলী পৌর যুবলীগ সভাপতি আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের মধ্য সৃষ্ট বিরোধ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে। রোববার বেলা ১২ টা ১৬/০৮/২০২০ জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত সমাঝোতা বৈঠকে বিরোধের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিস্পপ্তি করা হয়। বৈঠকে সংসদ সদস্য আ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, যুবলীগ সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ, আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকান, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আঃ রহমান নান্টু, সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ্যাডভোকেট আঃ কাদের উপস্থিত ছিলেন। জেলপ্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনজীবীদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউএনও মনিরা পারভীন উপস্থিত ছিলেন না। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ইউএনও বনাম আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের বিরোধের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্য সন্মানজনক সমাধন হয়েছে। ধৈর্য্য আর সহনশীলতার সাথে পারস্পপারিক সন্মানদিয়ে দায়িত্ব পালনে বিষয়ে বলা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোযার টুকু বলেন, আজ জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, নেতৃবৃন্দ এবং আইনজীবীদের সমন্ময় জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে আলোচনার মাধ্যমে ইউএনওর সাথে যুবলীগ নেতা আইনজীবীর সৃষ্ট ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। ইউএনও তার আচরনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কিনা জানতে চাইলে গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ইউএনও মহোদয় উপস্থিত ছিলেন না, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সৃষ্ট ঘটনাটি অনাংঙ্কিত বলে দাবি করেন। আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের বাবা অ্যাডভোকেট আঃ কাদের বলেন, বিষয়টি সন্মানজনক ভাবে নিস্পপ্তি হয়েছে। আগামী বুধবার আরিফের জামিনের জন্য আমরা আদালতে আবেদন করবো। ইউএনও বনাম আইনজীবীর মধ্য সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার নিস্পপ্তি হওয়ায় আমতলী বিশিষ্ট নাগরিকরা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন ও জনগন কখনো মুখোমুখি অবস্থান নিলে এলাকার শান্তি বজায় থাকেনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে ভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে সেখানে মাঠ কর্মকর্তাদের আরো সহনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে নাগরিকরা মনে করেন। বিগত ৮ আগষ্ট আমতলীতে সহকর্মীকে লঞ্চে এগিয়ে দিতে গেলে ইউএনওর সাথে আ্যাডভোকেট আরিফুল হাসানের দেখা হয় তখন তিনি ইউএনও মনিরা পারভিনকে ছালাম দেন। এতে ইউএনও ক্ষুদ্ব মন্তব্য করলে আরিফের সাথে বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরিফকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে আটক করে ২৬ ঘণ্টা থানায় রাখার পরে ইউএনও বাদী হয়ে আরিফের বিরুদ্বে হত্যা চেস্টার অভিযোগে মামলা করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমতলীত প্রতিবাদ মিছিল ও বরগুনায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মানববন্ধন করে। উনিশে আগস্ট এর মধ্যে মুক্তি না দিলে তারা পরবর্তী বৃহতকর্মসূচির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন এ ঘটনাকে নিয়ে ইউএনও প্রত্যাহারসহ নানা রকম মন্তব্য চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.