আব্দুল আল রাকিব,মানিকগঞ্জ।

মানিকগঞ্জে চলমান লকডাউনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিটে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে। নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হওয়াতে রোগীদের স্বজনেরা শয্যা ও অক্সিজেন সংকটের আশংকা করছেন।রোগী ভর্তির হার বাড়লেও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে তেমন সমস্যা হবে না বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বুধবার (১৪ জুলাই) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪ জুলাই হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে করোনা পজিটিভ রোগী ছিলেন ৪৯ জন ও আইসোলশন ওয়ার্ডে ৩৩ জনসহ ৮২ জন রোগী সেবা নেন। এদিন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক রোগী মারা যান। ৫ জুলাই করোনায় পজিটিভ রোগী ৫৪ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৫ জনসহ ৭৯ জন সেবা নেন। এদিন আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক রোগী মারা যান। ৬ জুলাই পজিটিভ রোগী ৫৮ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬ জনসহ ৮৪ জন রোগী সেবা নেন। এদিনও করোনা পজিটিভ এক রোগী মারা যান। ৭ জুলাই করোনা রোগী ৬৫ জন ও আইসোলশন ওয়ার্ডে ৩০ জনসহ ৯৫ জন রোগী সেবা নেন। ৮ জুলাই করোনা পজিটিভ ৬৫ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩১ জনসহ ৯৬ রোগী সেবা নেন। এদিন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২ ও করোনায় একজন মারা যান। ১০ জুলাই ৭৭ জন করোনা রোগী ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩২ জনসহ মোট ১০৯ জন সেবা নেন। এদিন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২ রোগী মারা যান। ১১ জুলাই ৮৬ জন করোনা রোগী ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৩ জনসহ মোট ১২৯ জন সেবা নেন। এদিন ২ রোগী মারা যান। ১২ জুলাই করোনা পজিটিভ ৯০ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৭ জনসহ মোট ১৩৭ জন সেবা নেন। ১৩ জুলাই করোনা পজিটিভ ৯৬ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৮ জনসহ মোট ১৪৪ রোগী ভর্তি থেকে সেবা নিচ্ছেন।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর আত্মীয় শিপু মিয়া বলেন, ‘রোববার আমার এক আত্মীয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকায় তাকে দেখতে যাই। ওইদিন তার পাশে তিনটি শয্যা খালি দেখতে পেলেও সোমবার দেখি রোগীতে ভরে গেছে। রোগী ভর্তির হার বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোকাল বেড ম্যানেজ করে দিচ্ছে। যেভাবে করোনা ইউনিটে রোগী বাড়তে শুরু করেছে তাতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা কীভাবে পাবে সেই শঙ্কায় আছি।

’আটিগ্রাম এলাকার ওবায়দুর রহমান বলেন,‘আমার চাচা করোনা ইউনিটে ভর্তি আছে। তার এ্যাজমার সমস্যা থাকায় সব সময় অক্সিজেন লাগছে। এখন পর্যন্ত অক্সিজেনের সংকট না হলেও যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে হাসপাতালে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হবে কী-না সেটি ভাবার বিষয়।

’সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন কচি জানান, জেলা হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থাপনা করা খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে এ ব্যবস্থাপনারও একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে। যেভাবে রোগী বাড়ছে তা আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসা সেবা চলমান রাখতে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আরও জনবল, শয্যা ও অক্সিজেনের সরবারাহের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে হবে।করোনা ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ডা. মানবেন্দ্র সরকার মানব জানান, সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের প্রচেষ্টায় বাড়তি রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। একশো শয্যার করোনা ইউনিট হলেও রোগী বাড়াতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক‌্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. কাজী এ এম রাসেল জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম তলা (কেবিন ব্লক) পুরোটাই কোভিড ডেটিকেটেড ইউনিট। পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা আইসোলেশন ও পজিটিভ ওয়ার্ড রয়েছে। গত কয়েকদিনে করোনা ইউনিটে নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেড়েছে। বাড়তি রোগীদের জন্য বাড়তি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ জানান, করোনা ইউনিটে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সঙ্গে ৯টি ভেন্টিল্যাটর, ১২টি হাই ফ্লোন্যাজাল ক্যানেলা, ১৩টি অক্সিজেন ফলে রোগী বাড়লেও অক্সিজেনের সংকট নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.