বেনাপোল প্রতিনিধি:

বেনাপোলের জেনারেটর ব্যবসায়ী শেখ হাশেম আলী এবং তার ভাই শেখ বিল্লালের বিরুদ্ধে বসত বাড়ী দখলের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সংবাদ সন্মেলন করেছেন শেখ হাশেম আলী এবং তার পরিবার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোল কার্যালয়ে এই সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী শেখ হাশেম আলী অসুস্থ থাকায় তার ভাই শেখ বিল্লাল হোসেন তাদের লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের মাঝে তুলে ধরেন।

সংবাদ সন্মেলনে বিল্লাল হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার এবং আমার ভাই হাশেম আলীর বিরুদ্ধে বসত বাড়ী দখলের যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা,বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। বেনাপোল পোর্টথানাধীন ভবারবেড় গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে এবং আমার ভাই হাশেম আলী কে যে ভাবে দোষারোপ করা হয়েছে তা নিতান্তই অন্যায়। অভিযোগে যে জমির কথা বলা হচ্ছে তা আমার ক্রয় সুত্রে খরিদ করা,সেখানে আমার ভাই হাশেম আলী’র জমির কোন স্বত্ব দখল বা দালিলিক কোন কাগজপত্র নাই।

অভিযোগ খন্ডিয়ে শেখ বিল্লাল বলেন, ১২৬৩ খতিয়ানে লিপিবদ্ধ বেনাপোল পোর্টথানাধীন ভবারবেড় মৌজার ৪৫৪ দাগের ০৮.৬৫ শতক জমির মালিক এখন আমি শেখ মোঃ বিল্লাল হোসেন। যা শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস এবং বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট আমার নিকট এবং ভূমি কার্যালয় সমূহের রেকর্ড বহি তে লিপিবদ্ধ আছে। জমির পূর্বেকার মালিক জনৈকা তফুরন নেছা এবং তার পুত্র আকবার হোসেনের          কাছ থেকে ০৭/৩/২০১৬ ইং তারিখ কবলা মূলে উল্লিখিত জমি খরিদ করিয়া দালিলিক কাগজপত্র নিয়ে বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার সহ উক্ত জমি ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি। আমার নামে উক্ত জমির নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দালিলিক কাগজপত্রও রয়েছে।

সংবাদ সন্মেলনে শেখ বিল্লাল হোসেন আরও বলেন,জনৈকা তফিরন নেছা’র ছেলে আকবার হোসেন বিগত কয়েক বছর যাবৎ ভবারবেড় গ্রাম এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে স্ট্যাম্প এর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে আসে,কিন্তু নির্ধারিত তারিখ মোতাবেক পাওনাদারদের টাকা ফেরৎ দিতে না পারায় সে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে। এমতাবস্থায়, ঐ সকল পাওনাদাররা হঠাৎ করে আমার বরাবর এসে আমাকে টাকা পরিশোধের কথা বলে,আমি বিস্তারিত জেনে তাদেরকে আকবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম,কিন্ত এতে তারা অসন্তষ্ট হয়ে আমার উপর চড়াও হয়, আমার জায়গায় বাড়ি নির্মাণের কাজে তারা বাধা সৃষ্টি করে,  আমি বাধ্য হয়ে বেনাপোল পোর্টথানায় এ সবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি,অভিযোগ মোতাবেক বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের দুইজন পুলিশ সদস্য আমার জমির উপর সরেজমিনে আসেন,এরপর পাওনাদারদের উপস্থিতিতে আত্মগোপণে থাকা আকবার হোসেনের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশদ্বয় কথপোকথন করে, কথা শেষে পাওনাদারদেরকে ঐ জমির কাছ থেকে চলে যেতে বলেন এবং আমাকে বাড়ি নির্মানের অনুমতি প্রদান করেন।

অসুস্থতার কারণে ব্যবসায়ী শেখ হাশেম আলী সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত হতে না পারায়, ছোট ভাই শেখ বিল্লাল হোসেন তার পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং উদ্ধৃত অভিযোগ থেকে ভাই শেখ হাশেম আলী এবং তার সন্ভ্রান্ত পরিবারের আত্মমর্যাদা রক্ষায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থ গ্রহনের অনুরোধ জানান।

আপনার মতামত লিখুন