সুমন ইসলাম বাবু, লালমনিরহাট

শখের বসে চুঁই গাছ লাগিয়ে সেখান থেকে লাখপতি হবেন এমনটা ধারনা ছিলনা তার। একটা চু্ঁঁই গাছ লাখ টাকায় বিক্রি করে এলাকায় ইতিমধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মহিউল ফারুক বুলবুল (৫০) নামে এক কৃষক।

সম্প্রতি “চু্ঁই গাছ” এক লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে,এমন ছবি বুলবুলের ছেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোষ্ট করলে সেটি ভাইরাল হয়। এতে চুঁই গাছটি নিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হয়৷ অনেকেই এর চাষ পদ্ধতি ও চারা নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করছেন। প্রতিদিন তার বাড়িতে জেলার বিভিন্ন লোকজন ভীড় জমাচ্ছেন।

জানাগেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের বানিনগর এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে মহিউল ইসলাম বুলবুল। ৪ বছর আগে শখের বসে পাঁচটি চুঁই গাছ বাড়ির বাগানে বিভিন্ন গাছের গোড়ায় রোপণ করেন। আম গাছে লাগানো একটি চুঁই পান গাছ গত মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। গাছটি কিনেছেন একই উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কাঞ্চনেশ্বর গ্রামের চুঁই ঝালের পাইকারি ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম। গাছের গোড়াটির দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে ৪ ফুট, ওজন সাড়ে ৩৮ কেজি। শিকড়ের ওজন ছিল ৬০ কেজি এবং লতার ওজন ১৪০ কেজি।

কৃষক মহিউল ফারুক বুলবুল জানান, শখের বসে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ৪ বছর আগে পাঁচটি চুঁই গাছ এনে লাগিয়েছিলেন। এক বছর ধরেই কেনার জন্য লোক আসছে। মঙ্গলবার একটি গাছ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ পেলে অনেকেই চুঁই গাছ নিয়ে জানতে তাঁর কাছে আসছেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ১০০ গাছ লাগিয়েছেন বলেও দাবী করেন।
বর্তমানে শুকনো চুঁইয়ের প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চুঁই গাছটির ক্রেতা আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি এলাকা থেকে চুঁই গাছ কিনে খুলনা, সাতক্ষীরার মহাজনের কাছে বিক্রি করে আসছেন। তিনি আরো জানান, ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কিনে খুলনার মোকাররম হোসেন নামে এক মহাজনের কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চুঁই লতাজাতীয় একটি গাছ। কান্ড ধূসর, পাতা পানের মতো। কান্ড থেকে আকর্ষি বের হয়, সেই আকর্ষি মাটিতে বিশেষভাবে রোপণ করলে সেটি থেকে গাছ হয়। এর কান্ডটি মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা সিফাত জাহান জানান, চুঁই মূলত সুপারি বাগানে সাথি ফসল হিসেবে লাগানো হয়। তিনি আরও জানান,চুঁই গাছটি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বিষয়টি উপ-সহকারি কৃষিকর্মকর্তার কাছ থেকে জেনেছি

Leave a Reply

Your email address will not be published.