সুমন ইসলাম বাবু, লালমনিরহাট 

মহামারী কোভিট-১৯ দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি মোকাবেলায় লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন খাতে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ২ হাজার ৩৫০ টাকা ও ৯শত ৭২ মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হয়েছে। এতে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০৫টি পরিবার উপকৃত হয়েছে। 

জেলা ও ত্রান পূর্ণবাসন দপ্তর সূত্রে জানা যায় ত্রাণ কার্য (নগদ অর্থ) ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৫শত টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এতে ৬৩ হাজার ৩১টি পরিবার উপকৃত হয়েছে। হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য (ভিজিএফ) আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩শত ৫০ টাকা, উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮ শত ৪৩টি, শিশু খাদ্য ক্রয়ে ৫ লাখ। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৬টি। গো-খাদ্য ক্রয় (নগদ অর্থ) ৫ লাখ, উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি, ৩৩৩ নম্বরে কলের মাধ্যমে ২১৫ জন সুবিধাভোগীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৫শত টাকা প্রদান করা হয়েছে। জিআর  (টাকা) খাতে ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ২ হাজার। তাছাড়া জিআর খাতে চাল ১শত ৯৬ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬শত। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা (বিজিএফ) জন্য ৭শত ৭৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৬শত জন। জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তার জন্য জেলায় নতুন করে ৯৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮শত ১০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঈদের পর খাদ্য অভাবের জন্য ৩৩৩ নম্বরে কল করলে তাদেরকে সহায়তা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

২০১১ সালে লালমনিরহাট জেলার জনসংখ্যা ছিল ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৯ জন। বিগত ১০ বছরে জনসংখ্যা আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৪শত ৩৭ জন। ২০১১ সালে জেলায় মোট খানার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৪শত ৪৪। বিগত ১০ বছরে আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩শত ৩৬। জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ১ হাজার ৭।

২০১৭ সালের প্রথম পর্যায়ে লালমনিরহাট জেলায় জাতীয় খানা তথ্য ভান্ডার শুমারী সম্পন্ন হয়। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক অনুদানে ৭শত কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপে শুমারী পরিচালিত হয়। ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম সফটওয়্যার ইন্সস্ট্রল না হওয়ায় জাতীয় খানা জরিপে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারের কোভিড-১৯ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ, বন্যা, খড়া ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঠিক খানার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রকৃতপক্ষে অভাবগ্রস্থ দরিদ্র, সহায় সস্বলহীন অনেকেই সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যারা হতদরিদ্র নহেন এরূপ ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে সরকারের ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক প্রার্থী তাদের দলীয় ও সমর্থক এবং আত্মীয়-স্বজনের মাঝে সরকারের এই কোভিড সহায়তার লক্ষ লক্ষ টাকা নীতিমালা অনুসরণ না করে বিতরণ করছেন।

সরকারের এই বিপুল অংকের টাকা দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত হত দরিদ্র ও অভাবী ব্যক্তির কাছে পৌচ্ছে কি না এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা অতিব জরুরি। তা না হলে সরকারের এই মহত উদ্দেশ্য ব্যর্থতার পর্যবশিত হবে। প্রকৃত হত দরিদ্ররা অপুষ্টিতে ভুগে অকালে প্রাণ হারাবে। অপরদিকে সমাজের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক কর্মী ও দলীয় সমর্থক ব্যক্তিরা মোটাতাজা হবে।

আপনার মতামত লিখুন