নব্বইয়ের দশকের দেশ সেরা সাঁতারু মো. আছাদুজ্জামান ছালাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁতার দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর আন্তবাহিনী, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য পদক। খ্যাতনামা এই সাঁতারুর বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বান্দুটিয়া গ্রামে। জন্ম, ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারী। বর্তমাস বয়স ৫৫ বছর ছয়মাস মাস একদিন।

যেসব ইভেন্ট তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছেন সেসব হলো-২০০, ৪০০ ও ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ২০০ ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে, ৪ গুণন ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, ৪ গুণন ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল রিলে এবং ওয়াটারপোলো।খ্যাতনামা সাঁতারু মো. আছাদুজ্জামান ছালাম বলেন, ‘আমি ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসের ৮ তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করি এবং একবছর পর, ১৯৮৫ সালে সেনা সাঁতার দলের সাথে সম্পৃক্ত হই।

১৯৮৫সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, টানা ২১ বছর সাঁতার দলের হয়ে আন্ত:ইউনিট, আন্ত:বিভাগ, আন্ত:বাহিনী, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অসংখ্যবার স্বর্ণপদক, রৌপ্য পদক ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছি। দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনীকে এবং আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছি।

’ তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ছয় বছর টানা বছর সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠ সাঁতারু বিবেচিত হই। সেনাবাহিনীতে চাকুরীকালীন সময়ে আমি ১৫টি স্বর্ণ, ৩৩টি রৌপ্য এবং ৪২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছি। জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১৯৮৯ সালে ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে এবং ১৯৯৬ সালে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে সাঁতারে জাতীয় রেকর্ডসহ মোট ২০টি স্বর্ণ, ৪৮টি রৌপ্য এবং ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও অসংখ্য পদক অর্জন করেছি। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সাফ গেমসে দুটি ব্রোঞ্জ এবং ১৯৯৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চুতুর্থ সাফ গেমসে একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছি। ১৯৯৬ সালে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সপ্তম সাফ গেমসে একটি ব্রোঞ্জ এবং একই সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ দুরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক অর্জন করেছি। এরপর, ১৯৯৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আর্ন্তজাতিক স্বাধীনতা কাপ ওয়াটার পোলো মিটে একটি স্বর্ণপদক অর্জন করেছি। একই বছর, মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব দুরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সাঁতারে স্বর্ণপদক অর্জন করে দেশকে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে বসিয়েছি।’তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৫ সালে সার্জেন্ট হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর আমি আমার নিজ জেলায় বসবাস করছি।

আমি বর্তমানে একটি ফলের ও সব্জির বাগান করেছি। আমার ইচ্ছে ছিলো জেলার শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখাবো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাঁতার নিয়েই থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার এই ছোট্ট চাওয়াটা পূরণ হয়নি। একজন সাবেক জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমাকে আমার জেলার মানুষও চেনে না। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগের খেলোয়ারদের ছবি টাঙানো থাকলেও আমার ছবি সেখানে স্থান পায়নি। নিজ জেলায় এমন স্বীকৃতির আশা আমি করতেই পারি। আমি টাকা-পয়সা চাই না। চাই সম্মান।’

মানিকগঞ্জের কৃতিসন্তান, খ্যাতনামা সাঁতারু আসাদুজ্জামান ছালামের দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রয়েছেন। জ্যেষ্ঠ কণ্যা শাম্মী জামান একজন আইনজীবী, ছোট কণ্যা সামিয়া জামান সরকারী দেবেন্দ্র কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং একমাত্র ছেলে রাকিবুজ্জামান বেকার অবস্থায় রয়েছেন। স্ত্রী সামসুন্বনাহার একজন গৃহিনী। পরিবারের সবাই গান-বাজনার চর্চা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.