রাম বসাক, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ

আধুনিকতার ছোয়ায় ও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন ঘোড়ার গাড়ি যা টমটম গাড়ি নামে পরিচিত | বিপাকে পড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী বাহন (ঘোড়ার গাড়ি) ব্যবসায়ীরা।এক সময় গ্রামে ও শহরে দেখা যেতো এই বাহনটিকে। সৌখিনতার বাহন ছিলো এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি( টমটম)। যে বাহনটিতে ছোটবড় কিশোর, কিশোরী , বৃদ্ধ সকলে শখ করে উঠতো ৷ কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় যন্ত্র চালিত বাহন থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে সৌখিনতার এই বাহন ৷

শুক্রবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ঘোড়াগাছা গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালান ৷ দুর্গম চরাঞ্চলের তার গাড়ি সহ পাঁচশ’ মতো গাড়ি রয়েছে ৷ তার বর্তমানে ২টি ঘোড়া ও ২ টি গাড়ি রয়েছে। প্রতিটি ঘোড়ার জন্য প্রতিদিন গুড়া, ভূষি, খুঁদ ,লালী বাবদ ২০০-২৫০ টাকার খাবার লাগে ৷

আধুনিক যুগে যন্ত্র চালিত বাহন থাকায় তার এই বাহন ব্যবহার অনেক কমে গেছে ৷ তারপরও তার গাড়ি বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের আগে মালামাল পরিবহন ও সৌখিনতার জন্য ভাড়া নিতো। তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো এই গাড়ি ৷ কিন্তু করোনা কালীন সময়ে সব কিছু বন্ধ থাকায় তার গাড়ির ভাড়া না থাকায় বিপাকে পড়েছে তিনি ৷

নিজেরা না খেয়ে থাকলেও অবোলা প্রানীদের প্রতিদিন ঠিকই খাবার দিতে হয় ৷ খাবার যোগাড় করতে গিয়ে দোকানের বাকী টাকা সহ মানুষের কাছে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে আছেন ৷ তার একমাত্র আয়ের উৎস যদি না থাকে এই ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন বলে জানান তিনি। আর তাই পরিশেষে এই ঐতিহ্যবাহী বাহন টিকে চালু রাখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন চরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.