সুমন ইসলাম বাবু, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার চন্দনপাট বুড়িরদিঘী সার্বজনীন বৃদ্ধেশ্বরী রাধা গোবিন্দ ও দুর্গা মন্দিরের জায়গায় জোরপূর্বক দোকান দখল, ভাড়া প্রদান না করা ও মন্দিরে তালা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানদা মোহন রায়ের (৩৪) বিরুদ্ধে।

সোমবার (২ আগস্ট) বিকালে এ ঘটনায় কৃষ্ণ রঞ্জন রায় বাদী হয়ে জ্ঞানদা মোহনকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

জ্ঞানদা মোহন রায় একটি বাড়ী একটি খামার আদিতমারী উপজেলা অফিসে কর্মরত ও উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাট গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার চন্দনপাট বুড়িরদিঘী সার্বজনীন বৃদ্ধেশ্বরী রাধা গোবিন্দ ও দুর্গা মন্দিরের জায়গায় জ্ঞানদা মোহন রায় জোরপূর্বক দোকান দখল, ভাড়া প্রদান না করা, দোকান ঘরের জামানত না দেয়া ও মন্দিরে তালা লাগিয়ে পুজারীদের পুজা প্রদানে বাধা দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষ দোকানের বকেয়া ভাড়া ও জামানতের টাকা পরিশোধের জন্য জ্ঞানদা মোহনকে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রদান করায় জ্ঞানদা মোহন রায় ক্ষিপ্ত হয়ে মন্দির কমিটির লোলজনকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

এ ঘটনায় জের ধরে জ্ঞানদা মোহন রায় (৩৪), নীলকান্ত কুমার (৫২),সুমন্ত কুমার রায় (৫৫),বিষ্ঞু কুমার (২৮),পুণিল চন্দ্র (৩৫)সহ আরো বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে এসে গত ২৯ জুলাই মন্দিরের গেটে তালা লাগাইয়া দেয় এবং মন্দিরের পূজারিকে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। এরপর পুজারিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ে এক আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে বিষয়টির সমাধান চেয়ে গত ৩০ জুলাই আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদকে লিখিতভাবে জানালে কমিটির নেতৃবৃন্দ ৩১ জুলাই বিকালে সরেজমিনে তদন্তে আসেন। পরে তারা মন্দিরের তালা খুলিয়া দেন। এসময় কৃষ্ণ রঞ্জন রায়ের পিতা সাবেক ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায় সহ সমাজের লোকজন তালা লাগানোর বিষয় বিচার চাওয়ায় আসামীদ্বয় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায়কে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকেন। এসময় তাকে রক্ষা করতে এসে মারধরের শিকার হন মানিক রঞ্জন ও শ্যামল কুমার।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মনোরঞ্জন রায়কে প্রথমে আদিতমারী হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর আহত মানিক রঞ্জন ও শ্যামল কুমার লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে জ্ঞানদা মোহন রায়ের পক্ষ থেকে তাদের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছ বলে তারাও আদিতমারী থানায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগেও গত বছরের ২ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ হলে পরে থানা চত্বরে বিষয়টি আপোষ মীমাংসাও করা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন,মন্দিরের দোকান ও জায়গা নিয়ে অভিযোগ থাকায় কমিটির লোকজন তদন্তে গিয়ে তালা খুলে চাবি দিয়ে আসার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম এধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,উভয় পক্ষ থেকে পাওয়া পৃথক দুটি অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখবেন পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.