দেশব্যাপী চলছে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন। গত ২৩ই জুলাই থেকে ৫ই আগষ্ট পর্যন্ত সরকারি নির্দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সরকারি বিধিনিষেধ মানতে দেশের সব জায়গায় চলছে কঠোর লকডাউন কর্মসূচি। পরবর্তীতে ১০ ই আগষ্ট পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়। সরকারী নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে প্রশাসন কঠোর হলেও জনসমাগম কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা। বরিশালের মানুষ কর্মের তাগিদে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপায় খুজে নিচ্ছে।মানুষে মানুষে সয়লাভ যেনো দেখার কেউ নেই এমনটাই বলছেন সুশিল সমাজ।তারা বলেন, জেলার সদর উপজেলার বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর পূর্বপাড়ের সব বাজার, স্টান্ডসহ বিভিন্ন মোড়ে দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা গেছে। বরিশালের প্রায় সব জায়গায় আগের তুলনায় জনসমাগম দেখা গেছে। পূর্বপাড়ের চরকাউয়া টু লাহারহাট, নেহালগঞ্জ, কাটাদিয়া, গোমাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মটর সাইকেলে গাদাগাদি করে লোকজন বহন করতে দেখা গেছে। এমনকি লাহারহাটে বেপরোয়া স্পিডবোটকে কোনোমতেই থামানো যাচ্ছে না।

এছাড়াও বরিশাল নথুল্লাবাদ থেকে অটো গাড়ি মাহেন্দ্রা, ভ্যান, প্রাইভেটকার, না ছাড়লেও প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে সুরভী তেলের পাম্প থেকে অনেকেই এসব যানবাহনে মাওয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে তিনগুন ভাড়া দিয়ে কর্মস্হলে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছে।

সর্বাত্মক লকডাউনেও গাদাগাদি করে দ্বিগুন যাত্রী বহন করছে তারা। অবৈধভাবে এ গাড়ীগুলো ও বরিশাল নদীর পূর্বপাড়ে স্পিডবোটগুলো সরকারী আইন অমান্য করে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
সরকার যেখানে সারা দেশে কঠোর লকডাউন জারি করে পরিবহন, লঞ্চসহ যান চলাচল বন্ধ রেখেছে, ঠিক সেই সময় তারা সরকারী আইনকে তোয়াক্কা না করে লকডাউনে তিনগুনের বেশি ভাড়া ও ডাবল যাত্রী নিয়ে যাত্রী পাড়াপাড় করছে, যাতে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে সংশ্লিষ্ঠ থানা পুলিশ, কোস্টগার্ড ও কিছু অসাধু সংবাদ কর্মীদের ম্যানেজ করেই ইজারাদার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ স্পিডবোট ও গাড়ী এবং নদীতে ট্রলার গুলো।

স্বাস্থ্যবিধি ও নজরদারি ছাড়াই সর্বাত্মক লকডাউনেও গাদাগাদি করে লাহারহাটে বেপরোয়া গতির স্পিডবোট চলাচল করেছে। ট্রলার,স্পিডবোটে সামাজিক দূরত্ব নেই, নেই লাইফ জ্যাকেটও। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী বহন করছে এসব নৌযান। কেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

লাহারহাট লঞ্চঘাট থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে ট্রলারে যাত্রা করা এক পথচারি মাস্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখলে গরমে দম আটকিয়ে আসে তাতে নিশ্বাস ছাড়তে পারি না। তাই মাস্ক পরি নামে মাত্র। বরিশাল থেকে আসা আরেক ভোলাগামী যাত্রী সাব্বির বলেন, মোর বাসা ভোলায় বরিশালের কাউনিয়ায় আল-আমিন বেকারীতে কাজ করি। জরুরি কাজে ছুটি নিয়ে দেশের বাড়িতে যাইতাছি। দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকেন।
কিন্তু একশ্রেণির অদক্ষ স্পিড বোট চালকদের হাতে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন উপায়ে যাত্রীদের হয়রানি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এমনকি তারা যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোট বোঝাই করে যাত্রী পারাপার করেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ এর ঘাটে যাত্রীদের সুবিধার্থে সিটিজেন চার্ট বা ভাড়া নির্ধারিত তথ্য বোর্ড নেই। ইচ্ছানুযায়ী ঘাটের ইজারাদার ভাড়া আদায় করে থাকেন। হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন যাত্রিরা।
তাদের অভিযোগ, বন্দর থানার কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। লাহারহাট লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন বরিশাল, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলায় যাতায়াত করে ৫ হাজারের বেশি যাত্রী। সরকারের নিয়মে এই ঘাটে প্রবেশ মূল্য দেয়া আছে তিন টাকা। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ ঘাটের ইজারাদার তাদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা আবার কখনও ১০ টাকা করে আদায় করছে। তার উপর কোনো টিকিটও দেয়া হয় না। প্রতিবাদ করলে তাদের হাতে হতে হয় হয়রানী ও লাঞ্চীত। লাহারহাট ঘাটে যাত্রীদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার রাসেল বলেন, সরকারি নিয়মেই তারা টাকা নিচ্ছে। যদিও টিকিটের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তিনি আরো বলেন কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতেই রোগীসহ ৬/৭ জন লোক নিয়ে বোর্ড গুলো ছাড়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ কঠোর লকডাউনের মধ্যে যেখানে নৌযান থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবন বন্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। সেখানে কিভাবে লাহারহাট ঘাটে অবৈধ স্পিডবোট, ট্রলার গুলো প্রশাসনের চোখের সামনে থেকে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন, পুলিশ, কোস্টগার্ডকে ম্যানেজ করেই মনে হয় তারা চালিয়ে যাচ্ছে স্পিডবোট। স্থানীয় মানিক নামে এক বৃদ্ধ বলেন, এই স্পিডবোটে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই যাত্রী নিয়ে করোনার মধ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

স্পিডবোট চলাচলের কারনে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে ধারনা করেন তিনি। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট ট্রলার গুলো বন্ধ করা হোক। ভোলাগামী যাত্রীরা বরিশাল থেকে সড়কপথে লাহারহাট গিয়ে ফেরি কিংবা লঞ্চে না উঠে দ্রুত কালাবদর নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য স্পিডবোটের যাত্রী হন। যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। ৮ জন ধারণ ক্ষমতার স্পিডবোটে যাত্রী বহন করা হয় ১০-১২ জন। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে উত্তাল কালাবদর পাড়ি দেয়ার জন্য লক্কর-ঝক্কর স্পিডবোট চালানোর জন্য দক্ষ ড্রাইভার নেই।

এসব স্পিডবোটের চলাচলের অনুমতি নেই, বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকারি দপ্তরের বিকল ও বাতিল পুরানো স্পিডবোট নিলামে ক্রয় করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এ রমরমা ব্যবসা। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বরিশাল-ভোলা সড়ক ও নৌরুটে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করে এ স্পিডবোট ও মটর সাইকেলগুলো। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলে তা আপস নিষ্পত্তি হয়ে যায় এমন কথা জানান অনেকে। এ রুটের স্পিডবোট দুর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি মারা গেলেও দোষী কাউকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।

এছাড়াও বরিশালের বিভিন্ন খেয়া ঘাটে যাত্রীরা হয়রানি হচ্ছে ভাড়া নিয়ে। বাবুগন্জের মীরগন্জ খেয়া ঘাটে তো যাত্রীরা নিয়মিত হয়রানি হচ্ছে ও ভারা নিয়ে প্রতিবাদ করায় শারিরীক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমান বন্দর (ওসি) বলেন , যদি কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাহেন্দ্রা, অটো প্রাইভেটকার , ট্রলার, মটর সাইকেল জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও যদি স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে এবং তিনি বলেন বিষয়টি আমি দেখছি।

আপনার মতামত লিখুন