ব্যুরো চিফ, বরিশালঃ

বাংলাদেশ সরকার দেশ, ও দেশের জনগনের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে করোনার শুরু থেকেই দিচ্ছে ধাপে, ধাপে লকডাউন। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালেও চলছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। কিন্তু কঠোর লকডাউন এখন কঠোর করে দিয়েছে সাধারন ব্যাবসায়ীদের বেঁচে থাকার জীবনকে, লকডাউনে দিন দিন গরীব হয়ে যাচ্ছে সাধারণ ব্যাবসায়ীরা। 

দেশে দেড় বছরের একটি অভিশপ্ত শব্দ করোনা।করোনা শব্দটি এতই অভিশপ্ত যে, সচল দেশকে করে দিয়েছে অচল।দিন দিন দখল করে নিচ্ছে তার এগিয়ে যাওয়ার রাজত্ব। চিকিৎসা বিজ্ঞানও যেন আজ হার মানছে অভিশপ্ত করোনার কাছে। মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে দিন দিন। কোন কিছুর কাছেই যেন নত হতে চাচ্ছেনা করোনা।  বিভিন্ন সাধারন ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, তারা এতটাই অসহায় হয়ে পড়েছে যে অনেকেই এখন রাস্তায় বসে পড়ার মত।বরিশাল জর্জ কোর্টের সামনে সাধারন ফল ব্যাবসায়ী বলেন, ভাই আমার বাড়ি বাখেরগন্জ চরামদ্দি, লকডাউনে আমি এতটাই অসহায় হয়ে পড়েছি যে, আমার স্ত্রী সন্তানকে গ্রামের বাড়ি দিয়ে আসছি,করোনার আগে স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে বরিশাল বাসা ভাড়া থাকতাম, আর এখন আমি নিজে ১০০০ টাকা দিয়ে টি,এন,টি মসজিদের ঔখানে বাসা ভাড়া থাকি তাও ভাড়া ঠিকমত দিতে পারিনা। করোনার আগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দিন ভালোই কাটছিলো।ফল বিক্রি করে দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা কামাই করতাম।আর এখন করোনা আসার পরে ধাপে ধাপে লকডাউনে এতটাই গরীব হয়েছি যে,৫০০ টাকায় একটি মোরগ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বরিশাল আসছি।এখন চলেন কিভাবে?  ভাই ফলের আড়ত দিয়া বাকিতে কিছু ফল আনছি, যদি এই ফল বিক্রি করতে পারি তাহলে আড়তদারকে দেয়ার পর যেটা থাকবে সেটা দিয়ে কষ্ট করে চলতে হবে আরকি!এদিকে আরেক জন ড্রাম ব্যাবসায়ী বলেন ভাই করোনার কারনে ধাপে ধাপে লকডাউন দেওয়ায় ব্যাবসা বানিজ্য আজ শেষ হয়ে গেছে। জমানো যে টাকা ছিল তা দোকান ভাড়া দিতে দিতে আর ধাপে, ধাপে লকডাউনের ভিতর সংসার চালাতে সব টাকাতো শেষ।বরং এখন একলক্ষ টাকার মত দেনা আছি। কি বলবো ভাই সোজাকথা এখন অসহায়ভাবে পরিবার নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। ব্যাংকের লোন প্রতিমাসে আমাদের ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। যদি পরিশোধ না করি তাহলে প্রতিমাসে অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে। ফুটপাতে দোকান ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের ছেলেমেয়ে ও পরিবারের ভরনপোষন নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে।এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে তারা কিভাবে বাঁচবে?গ্রামের বিভিন্ন দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এনজিওর কিস্তির জন্য পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করে,  অর্থাৎ প্রত্যক্ষভাবে কিস্তি না চাইলেও ফোন করে টাকা চায়।যদি এখন কিস্তির টাকা নিয়মিত না দেই তাহলে পরবর্তীতে লোন দিবেনা,  তাই বাধ্য হয়েও কিস্তির টাকা জোগার করতে হয়।

তবে দোকান খুলতে পারছিনা প্রশাসনের লকডাউন বাস্তবায়ন তৎপরতায়।  দোকান খুললে ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা মোবাইল কোটে জরিমানা গুনতে হবে। এখন আমাদের বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে পালিয়ে পালিয়ে দোকান খুলতে হয়।কিন্তু এভাবে জীবন চলেনা।অনেকে বলছে পেটে ভাত নাই লকডাউন দিয়ে কি হবে? লকডাউন দিতে হলে আগে আমাদের পরিবারের খাবার নিশ্চিত করুক সরকার।এক চা দোকানদার  মামুন খন্দকার বলেন, লকডাউনে রাস্তায় মানুষ চলাচল করছে স্বাস্হবিধি অমান্য করে, কোথাও কোনো স্বাস্হবিধির বালাই নাই। মানুষ ঢাকা যাচ্ছে গাড়িতে একত্রিত হয়ে গাদাগাদি করে, তাতে করোনা হয়না।কিন্তু আমরা যারা চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি তাদের কি অবস্হা?  এটাও সব প্রশাসন ও সরকারের বোঝা উচিত। আমরা সরকারের আইন মানি তাই দোকান খুলিনা,  কিন্তু আমদের কষ্ট তো কেউ দেখেনা। ঘরে বসে এভাবে কতদিন চলা যায়? সরকারের কাছে অনুরোধ আমরা যাতে দোকান খুলে আমাদের পরিবারের ভরনপোষন করতে পারি সেই দিক লক্ষ্য রেখে লকডাউন শিথিল করে স্বাস্হবিধি মেনে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়। এইভাবে হাজারও দোকানদার বা ব্যবসায়ীদের জীবন চলছে দূর্বিসহ। যা কাউকে বোঝাতে পারেনা আর দেখাতেও পারেনা।সবার একটাই দাবি আমাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে স্বাস্হ বিধি মেনে দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.