সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট

অফিস বা বাড়িতে অপরিচিত মানুষ আসলে দরজা খুলবে না। আগুন লাগলে বা গ্যাস লিকেজ হলেই সাইরেন বাজবে ও অফিস বা ঘর থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। আবহাওয়া সংক্রান্ত কোন জটিলতা দেখা দিলেও বাজবে সাইরেন। এতে করে পরিবার বা অফিসের সদস্যরা থাকবে সুরক্ষিত। এ রকমই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুয়েটে অধ্যায়নরত মেধাবী শিক্ষার্থী ফারহান তানভীর হৃদয়।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ে তৃতীয়বর্ষে অধ্যায়নরত হৃদয় দাবি করেছে ‘উদ্ভাবিত প্রযুক্তি অফিস বা বাসা- বাড়ির অবকাঠামোর সাথে লাগিয়ে ব্যবহার করা হলে সুরক্ষিত থাকবে জীবন ও সম্পদ।’


সরেজমিনে উপজেলার বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সে (হৃদয়) তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় উন্নত করার পরিকল্পনায় কাজ করছেন। প্রযুক্তি ব্যবহার সহজ করতে ল্যাবটপে অ্যাপস্ তৈরিতে কাজে রয়েছেন।‘


জানা গেছে, হৃদয়ের বাবা সফিদ আলী বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মা ফরহানা ইয়াছমিন ১ নং বুড়িমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ১ ভাই ১ বোন তাঁরা। হৃদয় ২০১৫ সালে বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, ২০১৭ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে ভর্তি হন।


করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বুয়েট বন্ধ থাকায় বাড়িতে শুরু করেন অফিস ও বাড়ি কিভাবে সুরক্ষিত রেখে জীবন এবং সম্পদ রক্ষা করা যায়। সে পরিকল্পনা থেকেই প্রায় ৫ মাস থেকে চেষ্টা চালিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন সুরক্ষিত অফিস ও বাড়ির প্রযুক্তি। নাম দিয়েছেন। ‘স্মার্টহোম প্লান’ । এটি বাসা- বাড়ি বা অফিসে ব্যবহারে খরচ পড়বে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।


বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল সেন্সর, মাইক্রো কন্ট্রোলার ও মটর পার্টস দিয়ে তৈরি। ‘স্মার্টহোম প্লান’ প্রযুক্তি বাসা- বাড়ি বা অফিসে লাগানো থাকলে নিরাপত্তা ক্যামেরার সাহায্যে বাড়ির বা অফিসের সদস্য বা লোকজনগণ নিদিষ্ট স্থানে দাঁড়ালে দরজা খুলবে ও বন্ধ হবে। এক্ষেত্রে অপরিচিত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।


কক্ষের তাপমাত্রা ও আদ্রতার ভিত্তিতে ফ্যান, এসি সয়ংক্রিয়ভাবে চালু ও বন্ধ হবে। ঘরে আগুন বা গ্যাস লিকেজ হলে সাইরেন বাজবে ও কর্তৃপক্ষের নিকট এ সংক্রান্ত মেসেজ যাবে। কক্ষে কোনো মানুষ না থাকলে সয়ংক্রিয়ভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে থাকবে এ প্রযুক্তি। পানির ট্যাংকে পানির স্তর কম হলে সয়ংক্রিয়ভাবে পানি তোলার বৈদ্যুতিক মটর চালু হবে। প্রয়োজনীয় পানির স্তর পর্যন্ত হওয়ার সাথে মটর বন্ধ হবে।


কক্ষে একজন মানুষও থাকলে ফ্যান চলবে লাইট এমনিতেই জ্বলবে। না থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে। আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতির অবস্থাও জানিয়ে দিবে এ প্রযুক্তি। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে বিদ্যুৎ বা সোলার সিস্টেমের (ব্যবহার পদ্ধতি)।


হৃদয় বলেন, এন্ড্রয়েডম ফোনের একটি অ্যাপস্ তৈরি করেছি এবং এটির কারিগরি উন্নয়নের কাজ করছি। এ্যাপের মাধ্যমে সবগুলো পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। যে কোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওয়াইফাই ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও জিপিএসের সাহায্যে গাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের অবস্থান জানা ও পর্যবেক্ষণ করার পদ্ধতি তেরিতে চেষ্টা করছি।


ফারহান তানভীর হৃদয় বলেন, আমার এ প্রচেষ্টা আর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগীতা করলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি দেশের বিদ্যুতের অপচয় রোধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সময় সাশ্রয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করবে এই স্মার্ট হোম প্লান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.