হাসান আহমেদ, বরিশাল ব্যুরোঃ

সারাদেশে লকডাউন শেষ। বরিশালে সব দোকানপাট, শপিংমল, অফিস খোলা। রাস্তায় বাসসহ সকল যানবাহন চলাচল করছে।মানুষের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস। রাস্তায় স্বাস্থ্য বিধি না মানলেও মাস্কের ব্যবহার চোখে পড়ার মত।টিকা কেন্দ্রে মানুষের দীর্ঘ লাইন।সবমিলিয়ে মানুষ নিজের মত করে চলতে পারছে।ব্যাংকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে।  তবে সারা দেশে সরকার কর্তৃক বিধি নিষেধ  শেষে টানা ১৯ দিন পর সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও আজ থেকে খুলছে প্রায় সব সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত অফিস, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও শপিংমল এবং গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ীদের দোকান পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন সরকার। তবে পর্যটন আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত খুলছে না।

গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও সব ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অফিস-আদালাত ও দোকানপাট চালুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুটে অর্ধেক গণপরিবহন চলবে। তবে সরকার পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ২৮ জুন থেকে সীমিত আকারে বিধিনিষেধ শুরু হয়। সেদিন থেকেই সারা দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। ঈদের ব্যবসার জন্য আট দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। তাতে ঈদের আগে ছয় দিন বেচাবিক্রির সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। অনেকে ঈদের দিন ও তার পরদিনও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখেন। ২৩ জুলাই থেকে আবার ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। পরে সেটি ১০ আগস্ট, অর্থাৎ মঙ্গলবার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও ৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চলমান বিধিনিষেধে না বাড়ানোসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এতে বলা হয়, দোকানপাট ও বিপণিবিতান সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। বিধিনিষেধে খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকলেও ভেতরে বসে খাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিলো।তবে বরিশালে লকডাউন শেষ হওয়ার সাথে সাথে ব্যক্তিগত গাড়ি,  রিক্সা, ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল ছিল লক্ষণীয়। প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাসহ অলিগলির সকল বানিজ্যিক দোকানপাট  খুলে বেচাবিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর মধ্যে সকল ধরনের গণপরিবহণ চলতে দেখা গেছে। এছাড়াও মহাসড়কসহ শহরতলীতে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

নথুল্লাবাদ থেকে ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহন ও গনপরিবহন।কোথাও কোন বাধানিষেধ নাই। বরিশাল সদরঘাটে ঢাকাগামী লন্ঞ গুলো ধুয়ে মুছে তৈরী করে রাখা হয়েছে যাতে আজ থেকে চলাচল করতে পারে। বিধিনিষেধের পর  বরিশালের জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক দেখা  গেছে। ফিরে পেয়েছে চিরচেনা কোলাহলময় জনজীবন।সকল শ্রেনির মানুষের মধ্যে ছিলে স্বস্হির নিঃশ্বাস। ফিরে পেয়েছে স্বাধীন জীবন। দূর হয়েছে অস্বস্হিময় জীবন। তবে সর্বসাধারনের সরকারের কাছে একটাই দাবি আর যেনো লকডাউন বা শাটডাউন না দেয়া হয়। সবাই স্বাস্হ বিধি মেনে স্বাভাবিক  চলাচল ও ব্যবসা কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে।যদি ফের লকডাউন দেয়া হয় তাহলে অনেকেই পথে বসে যাবে। তাহলে অর্থনৈতিকভাবে সবাই অসচ্ছল হয়ে যাবে।আবার অনেকে মনে করছে এ করোনা ভাইরাস রোগ নিয়েই আমাদের সারাজীবন চলতে হবে। অন্যান্য রোগের ন্যায় করোনা ভাইরাসও পৃথিবী ছেড়ে যাবেনা। তাই লকডাউন দিয়ে এর সমাধান না করে স্বাস্হবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেস্টা করতে হবে অনেকেই এটা মনে করে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.