মোস্তাফিজুর রহমান নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

গত ১২/০৮/২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার ঢাকা প্রেসক্লাব ও মাদরাসা অধিদপ্তর এর সামনে বিভিন্ন মাদ্রাসাতে আবেদনকৃত গ্রন্থগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি প্রত্যাশীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্য দোয়া করা পূর্বক তাদের দাবিগুলো নিয়ে মানববন্ধন করেন। গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি প্রার্থীদের পক্ষে ছিল সারা বাংলাদেশব্যাপী অনেক বৃহৎ একটা সংগঠন গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান চাকুরী প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ। উক্ত সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধন ও ১৯৭৫ সালের ১৫-ই আগস্ট সেই কালো রাতে হত্যা হওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দেশের গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থগারিক (স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায়) চাকুরী প্রত্যাশী ভাইয়েরা। উক্ত মানববন্ধনে সারা বাংলাদেশের গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি প্রত্যাশীরা তাদের কষ্টের কথা ও তাদের বঞ্চিত করা হলো কেন এটার দাবি জানান উক্ত মানববন্ধনে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান চাকরিপ্রত্যাশী পরিষদের সভাপত খান সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, এমপিওভ‚ক্ত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজে গত দশ বছর যাবৎ গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর) এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসায় গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকের দুটি নবসৃষ্ট পদ তৈরি করা হয়। উক্ত পদে জুলাই ২০২০ থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও নানা কারনে তা বাধাগ্রস্থ হয়ে ফের ২৩ নভেম্বর ২০২০ (সংশোধিত) মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায়ও উক্ত পদ দুটি বহাল থাকে, আমরা দেশের হাজার হাজার বেকার শিক্ষার্থীরা উক্ত নীতিমালা অনুযায়ী মাদ্রাসা গুলোর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া দেখে প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল শর্তাবলী মেনে ৫০০/১০০০/২০০০ টাকার পোষ্টাল অর্ডার/ ব্যাংক ড্রাপট সহ আবেদন পত্র জমা দেই, আমরা এক এক জনে ২০/২৫ টি এমনকি তারও অধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে প্রতিজনের ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরো বলেন,প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই দুটি পদে নিয়োগের জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন করা হয়েছিল সর্বশেষ ২৮ জানুয়ারী ২০২১ ইং এরপর থেকে অজ্ঞাত কারনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশনায় আজও পর্যন্ত এই দুটি পদে মহাপরিচালক মহোদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন করা হয়নি। উক্ত মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান চাকরি প্রত্যাশিত ঐক্য পরিষদের যুগ্ন মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান। উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অলিউর রহমান, সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা সদস্য রাসেল আহমেদ, যুগ্ন মহাসচিব আব্দুস সালাম, যুগ্ন মহাসচিব শহিদুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। সঞ্চালক মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, অত্যান্ত দুঃখের সাথে আপনাদের জানাচ্ছি যে, স্কুল, কলেজ এই দুটি পদে গত ১০বছর যাবৎ নিয়োগ চলমান রেখে গত ৩০ মে ২০২১ ইং পর্যন্ত ৯০-৯৫০% নিয়োগের পরে উক্ত পদ দুটিকে শিক্ষক/প্রভাষক এর মর্যাদা দিয়ে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কে নিয়োগ সুপারিশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৩১ মে ২০২১ একটি আদেশ জারি করে কিন্তু আমরা যারা মাদ্রাসায় আবেদন করেছি মাত্র দু/এক মাস নিয়োগ চলে দীর্ঘ ৬/৭ মাস পর্যন্ত সচিব মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশনায় বন্ধ রেখে পদ দুটিকে শিক্ষক/প্রভাষক এর মর্যাদা দিয়ে উক্ত পদের নিয়োগ (এনটিআরসিএ) কে সুপারিশ করে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ গত ১৮ জুলাই ২০২১ ইং একটি আদেশ প্রকাশ করে। তাতে আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন মাদ্রাসায় আবেদন করে নিয়োগের আশায় লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী প্রক্রিয়াধীন আছি, তারা আজ সর্বশান্ত হয়ে পথে নেমেছি। পরিশেষে সংগঠনের সভাপতি বলেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আজকে মানববন্ধন ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠান থেকে আপনাদের মাধ্যমে আমরা বলতে চাই সরকার গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদ দুটিকে পদোন্নতি দিয়ে যে শিক্ষক/প্রভাষক মর্যাদা দিয়েছেন এই মর্যাদাকে আমরা সকল চাকুরী প্রত্যাশীরা স্বাগত জানাই। তবে ১৮ জুলাই ২০২১ অফিস আদেশ জারির পূর্বে সরকারের পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী আমরা যারা সকল শর্তাবলী মেনে লক্ষ লক্ষ টাকা পয়সা খরচের মাধ্যমে আবেদন করে নিয়োগের আসায় প্রক্রিয়াধীন আছি তাদের নিয়োগ পূর্বের নিয়মে সম্পন্ন করার জন্য জোর দাবি জানাই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা উপ-মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। সর্বশেষ দাবী হল আমাদের একটাই ১৮ জুলাই ২০২১ এর পূর্বে মাদ্রাসার দীর্ঘমেয়াদী বন্ধ রাখা নিয়োগ পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করলে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব মাদ্রাসা বিভাগের ও মাদ্রাসা অধিদপ্তর এর ডিজি মহাদয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.