হাসান আহমেদ, বরিশাল ব্যুরো চিফঃ

সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের অবরোধে জেলা থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয় দীর্ঘক্ষন।

বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকে কোনো রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়া মেয়রের অনুসারীরা সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছিল।

জানা যায়, বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও রূপাতলীতে এলোপাতাড়ি বাস ফেলে রেখে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন মেয়রের অনুসারীরা। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের যানবাহন চলাচল।

ফলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলাসহ পায়রাবন্দর এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গেও ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো।

এছাড়া মেয়রের অনুসারীরা সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। বরিশাল থেকে বেরুনো এবং ঢোকার সব পথ অবরোধ করায় কার্যত: অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বরিশাল। গন্তব্যে যেতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

এর আগে বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে ব্যানার খোলা কেন্দ্র করে ইউএনওর ওপর হামলার চেষ্টাকালে আনসার সদস্যদের গুলি ও পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত ১১টার পর বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমানের ওপর হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কমপ্লেক্সে এসব ঘটনা চলার মধ্যেই সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। বাস ভাঙচুরসহ সড়ক অবরোধ ঠেকাতে গেলে তাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়, সেখানে থাকা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগকর্মীদের সঙ্গে। এতে পুলিশসহ আহত হন ৩০ জন। একপর্যায়ে পিছু হটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা। এরই মধ্যে নগরভবনের বেশ কয়েকটি ময়লা ফেলার গাড়ি এনে এলোপাতাড়ি ফেলে রেখে অবরোধ করা হয় ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক।

স্তূপাকারে নাগরিক বর্জ্য ফেলা হয় মহাসড়কে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল।
এতে সারা দেশের সঙ্গে বরিশালের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নির্দেশে অবরোধ তুলে নেয় তার অনুসারীরা। তারপরও সচল হয়নি সব সড়ক। কেননা অবরোধ চলাকালীন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ জানান, বরিশালবাসীর ভোগান্তি লাঘবে মেয়রের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘন্টা অবরোধ থাকার পর যানবাহন চলা শুরু হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরেই মামলা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.