সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে নব দিগন্ত সিকিউরিটি সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক’শত চাকরি প্রত্যাশী উঠতি বয়সী ছেলেদের কাছে সিকিউরিটি সার্ভিসের চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা।

মঙ্গলবার( ১৭ আগষ্ট) বিকালে জেলার আদিতমারি উপজেলার সাপ্টিবাড়ী তেতুলতলা এলাকায় অবস্থিত নব দিগন্ত সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে চাকরি প্রত্যাশী অর্ধশত ব্যাক্তি টাকা ফেরতের দাবিতে অফিসটি ঘেড়াও করেন। এরপর আদিতমারি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং কার্যালয় তালাবদ্ধ করে স্থানীয় খুশিনুর নামের একজনকে দ্বায়িত্ব দেয়

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি তামাক ভর্তি গোডাউন ও পাশের দুইটি রুম ভাড়া নিয়ে সিকিউরিটি সার্ভিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিজেদের কার্যক্রমকে তড়ান্বিত করতে সুকৌশলে একটি গ্রামের ভিতরে রুম ভাড়া নিয়ে দেড় মাস যাবৎ করা হতো এই প্রতারণা। তামাক ভর্তি গোডাউনের একপাশে সিকিউরিটির পোশাক ও বাংলাদেশ পুলিশের স্টিকার লাগানো বুট জুতা রাখা হয়েছে। চাকুরি প্রত্যাশী ব্যাক্তিদের এই পোশাক ও জুতা সরবারহ করা হতো।

প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং অফিসার মোঃ জসিম আলী জানান, আমি দেড় মাস হলো এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছি। আমরা চারজন চাকুরিতে জয়েন করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জিয়াউর রহমান সবুজের নিকট প্রত্যকেই জামানত হিসেবে পয়ত্রিশ হাজার টাকা জমা দিয়েছি।

হারাটি ইউনিয়নের শাহজালাল বলেন, স্থানীয় বাজারে আমার বাবা কলার ব্যাবসা করেন। আমার কাছে সিকিউরিটি সার্ভিসের চাকুরি দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয় করোনাকালে তাকে ভাতার ব্যাবস্থা,রেশনের ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে তবে তাকে কাজ করতে হবে ৪০ দিন । এরপর চাকুরির জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নাটোর জেলায়। সেখানে তাকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরি না দিয়ে লেবারের কাজ করানো হয়। সেখানে তিনি দুদিন না খেয়ে ছিলেন তাই চলে এসেছেন এমনটি প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

চাকুরি প্রত্যাশী অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরির জন্য চার হাজার একশত টাকা দিয়েছি। আমাকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে অনেকদিন থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে। তাই আমি টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ঘুড়ছি।

প্রতিবেশী খুশিনুর আলম বলেন, তারা প্রায় দেড় মাস যাবৎ এখানে রুম ভাড়া নিয়ে সিকিউরিটি সার্ভিসের কাজ করছেন। কয়েকদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই চাকুরি প্রত্যাশী ছেলেদের অবিভাবক টাকা ফেরতের জন্য অফিসের সামনে আসতো।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাবুল মিয়া জানান,দীর্ঘ দুই মাস যাবৎ আমাকে সিকিউরিটি সার্ভিস অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জিয়াউর রহমান সবুজ নিজে পরিচালক ও তার পিতা মতিয়ার রহমান স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। তাদের প্রতারণার বিষয়ে শিঘ্রই আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

আদিতমারি থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি । লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে বিডি পুলিশ স্টিকার সমন্বিত বুট জুতা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এরকম জুতা মার্কেটে কিনতে পাওয়া যায়। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বুটজুতা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.