সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় গত এক বছরেও শেষ হয়নি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) উন্নমূূলক কাজ। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের দুর্বলতা আর ঠিকাদারকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। ফলে এখনও ঝুলে আছে উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজ।


আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১১টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র চূড়ান্ত করা হয়। এসব উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। গত জুনের মধ্যে কাজ শেষ দেখিয়ে এসব টাকা উত্তোলন করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। নিয়ম না থাকলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এটা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।


এদিকে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদাররা কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে ওই অর্থবছরের ১০টি প্যাকেজের প্রায় সব কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও বাকি রয়েছে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরের অভ্যন্তরীণ পুকুরের পাড় ও প্যালাসাইডিং এবং পাশে ফুটওয়াক নির্মাণ কাজ। এ খাতের জন্য প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে (প্যাকেজ নম্বর-এডিপি/আদিত/লাল/১৯-২০/০১)। আর এ কাজটি পেয়েছেন লালমনিরহাট সদরের মাহবুবার রহমান লিটন নামের একজন ঠিকাদার। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও উন্নয়নমূলক কাজটি ঝুলে রয়েছে। ফলে সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।


তবে অভিযোগ রয়েছে কাজের শুরু থেকে এ কাজটি কিনে নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বহিষ্কার) ফারুক ইমরুল কায়েস জোর তদবির চালান। এ কারণে অনেকদিন ঝুলেও ছিল কাজটি। শেষে উপজেলা প্রশাসনের চাপে মূল ঠিকাদারকে কাজ শুরু করতে বাধ্য করা হয়।
তবে মূল ঠিকাদারের দাবি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসই তার কাছ থেকে নিয়ে কাজটি করছেন।


সরেজমিনে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, ফুটওয়াকের ঢালাই কাজ করা হয়েছে। এখনও টাইলসের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আর অভ্যন্তরীণ পুকুরের পাড় প্যালাসাইডিং করার জন্য কিছু জায়গায় রড বসানো হয়েছে মাত্র।

কাজটি দীর্ঘদিন এভাবেই ঝুলে থাকলেও প্রশাসনের এ বিষয়ে নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি, মূল ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার মৌখিক ও চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, কিছুদিন পর বর্ষা আসছে। বর্ষা এলে এ কাজটি করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই তারা দ্রুত কাজটি শেষ করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মাহবুবার রহমান বলেন, কাজটি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস আমার কাছ থেকে কিনে নিয়ে তিনিই করছেন। তিনি বলেন, এ কাজটি নিয়ে আমিও বিপদে রয়েছি। তবে দু-একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ‘আমরাও এ কাজটি নিয়ে বিপদে আছি। কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে চাপ দেয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনছুর উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী শাখার। তবে উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে মূল ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ করা জন্য চাপ দেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.