শংকর চন্দ্র সরকার, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনা সীমান্তে দুর্গাপুরে বাড়ির অদূরে টিনশেডের পুরনো ও পরিত্যক্ত টয়লেটে দুই যুগ ধরে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন নারী শংকরী গুহের পাশে দাঁড়ালেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব-উল-আহসান। তিনি প্রতিবন্ধী শংকরীর জীবন যাপনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সংবাদ পেয়ে মানবিক ইউএনও রাজীব-উল-আহসান দুর্গাপুর পৌরশহরের আমলাপাড়া এলাকায় শংকরী গুহের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে তিনি শংকরীর পরিবারের লোকজনও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্পর্কে মূল্যবান পরামর্শ দেন।

তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও শংকরী গুহের বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিতে তার ভাই জীবন লাল গুহের হাতে নগদ ৬ হাজার টাকা দেন। দুই বাণ্ডিল ঢেউটিন এবং খাদ্য সামগ্রীসহ তার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আরও ৫ হাজার টাকা তুলে দেন। শংকরীর শরীর ও মনের যত্ন নিতে পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ দেন।যাতে সে সহজে আগের সুন্দর জীবনে ফিরে যেতে পারে।

এসময় দুর্গাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নাসির উদ্দিন ও দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকসহ সাংবাদিগণ উপস্থিত ছিলেন।

শংকরী গুহের ভাই জীবনলাল গুহ জানান, গরীব মানুষ। নিজেদেরই থাকার মতো কোনো ঘর নাই। একটা ভাঙা ঘরে আমরা কষ্ট করে থাকি। প্রতিবন্ধী বোনটিকে বাধ্য হয়ে টয়লেটে বেঁধে রেখেছি। তার চিকিৎসা করানোর মতো টাকা ও নাই। স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এ জন্য আমরা খুবই খুশি। আমরা কূতজ্ঞ।

ইউএনও রাজীব-উল-আহসান বলেন, টয়লেটে শিকলবন্দি শংকরী গুহের বাড়িতে গিয়ে সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে শংকরীকে টয়লেট জীবন থেকে মুক্তি দিতে একটি ঘর নির্মাণের জন্য কিছু নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সামগ্রী তার পরিবারের কাছে দিয়ে এসেছি। তার উন্নত চিকিৎসাসহ শংকরীর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সবাই তাকে সান্ত্বনা ও সহযোগিতা করলে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.