সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সদরের ভাদাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মমিনুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সাধারন লোকজনকে হয়রানী ও জমি খারিজে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আর অভিযোগের বিষয়ে এ প্রতিনিধি তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ভাদাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী তহশিলদার মমিনুল ইসলাম চৌধুরী মহিষখোচা ইউনিয়ন থেকে বদলী হয়ে উপজেলা সদরের ভাদাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগদান করেন। এখানে যোগদানের পর থেকে তিনি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সাধারন লোকজনকে নানা করানে হয়রানী করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি জমির খারিজ বাবদ সরকারী ফি’র বাহিরে তাকে অতিরিক্ত ৫ শ টাকা করে দিতে হয়। তার চাহিদা মাফিক অর্থ না দিলে তাকে হতে হয় নানা হয়রানীর শিকার।
জানাগেছে, তার অফিসে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট বা দালাল চক্র। এ চক্রটির মাধ্যমে জমির খারিজ করতে গেলে সাধারন লোকজনকে কখনও হয়রানীতে পরতে হয়না। তিনি এসব দালালদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ। এসব বিষয়ে সাধারন লোকজন প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে ভূমি অফিসের দালাল নামে পরিচিত একজন এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই আমরা এখানে কাজ করে খাই, তাই মুখ খুলতে পারিনা। তিনি দাবী করে বলেন, প্রতিটি জমির খারিজের কাগজ জমা দিলেই তাকে অতিরিক্ত ৫শ টাকা করে দিতে হয়। এর বাইরে তিনি আর কোন কথা বলতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী একাধিক সাধারন লোকজন অভিযোগ করে বলেন, জমির খারিজের জন্য তার অফিসে গেলে নান কারণে তাদেরকে হয়রানী করেন এ কর্মকর্তা। তারা আরো বলেন, তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির খারিজের কাগজপত্র ও ৫ শ টাকা দিলেই কোন হয়রানীতে পরতে হয় না।

ভাদাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে সাধারন লোকজনকে হয়রানী ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি এ প্রতিনিধির সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
আদিতমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিলশাদ জাহান বলেন, তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.