মোঃ আশরাফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জেলার সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের লেমুবাড়ী গ্রামে মানিকগঞ্জ-হরিরামপুর আঞ্চলিক সড়কের নিচ দিয়ে তৈরী করা সরকারী কালবার্টের মুখে বালু-মাটি ফেলে ভরাট করে রেখেছেন স্থানীয় মৃত নছর উদ্দীনের ছেলে আশোক আলী(৬০)। যার ফলে পানি কালবার্ট দিয়ে বের হয়ে হাসলি চকে(ফসলী জমি) না গিয়ে অপর প্রান্তে জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যাতে করে ভোগান্তিতে দিন পার করছেন প্রায় অর্ধশত ভূক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ড্রেজার দিয়ে রাস্তা পাশে কালবার্টের সামনে নিজের জায়গায় বালু ফেলে ভরাট করে আশোক আলী। সে সময় স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ না করেই জায়গা ভরাট করে আশোক আলী। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান – মেম্বারদের বিষয়টি জানানো হলেও কোন সুফল পাননি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। যার ফলে প্রায় সময়ই পনিতে ভিজেই রাস্তা পার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কালবার্টের মুখ বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে পানির মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।কারো হাটু পানি কারো আবার কোমর পানি পেড়িয়েই মূল রাস্তায় উঠে হাট-বাজার,মসজিস সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে যেতে হচ্ছে।

এলাকার ভুক্তভোগীরা বলেন,” কালবার্টের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার ফলে পানি বের না হয়ে জমে থাকে। বৃষ্টির পানিতেই আমরা রাস্তায় বের হতে পারিনা। রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়।বন্যার পানি ঢুকলেতো বাড়িতেও পানি উঠে যায়। বালু ফেলার সময় আমরা বাঁধা দিলেও কোন কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান – মেম্বারদের বলার পরেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বৃষ্টির পানি জমেই এই অবস্থা, যদি বর্ষার পানি আসে তাহলে বাড়িতে থাকারও উপায় থাকবেনা। আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।” এবিষয়ে জানতে চাইলে আশোক আলী বলেন,” আমারতো থাকতে হবে।তাই মাটি ভরাট করেছি। ভরাট করার সময় কেউ বাধা দেয় নাই। যদি আমার জায়গার মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বা চাক দিয়ে পানি যাওয়ার রাস্তা বের করে তাহলে আমি করতে দিব।কোন অসুবিধা নেই।তবে আমার পক্ষে কিনে তা করে দেওয়ার সামর্থ্য নাই। ”

এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ নাজিমুদ্দিন বলেন,” আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। আমি ওই জায়গায়ও গিয়েছি। আর আমার চেয়ারম্যান সাহেবকেও আমি বিষয়টি জানিয়েছি।”

এবিষয়ে পুটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব জলিল মোল্লা বলেন,”আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। “

Leave a Reply

Your email address will not be published.