রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামী আনিসুল ইসলাম রাজা কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজা টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম মোতালেবের ছেলে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাজা ফারুক হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন। রাজার পেট ফুলে যাওয়ায় গত ১৬ আগস্টের দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৮ আগস্ট তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই কারাগারের হেফাজতে তাকে মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলীকে ২০১৪ সালের গ্রেফতার করে। ওই দুই আসামীর জবানবন্দিতে এই হত্যার সাথে তৎকালিন সরকার দলীয় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এবং তার অপর তিন ভাই পৌরসভার তৎকালিন মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকণ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। তার পরেই আমানুর ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। ২২ মাস পলাতক থাকার পর আমানুর রহমান রানা আদালতে আত্মসর্মপন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রায় দুই বছর হাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

এ মামলায় সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগারে রয়েছেন এবং অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান কাকন ও সানিয়াত খান বাপ্পা পলাতক রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.