মোঃ আশরাফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার আসমা বেগমের উপর।

জানা যায় দুই বছর পূর্বে পুটাইল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের লেমুবাড়ী গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী মহরানী বেগমকে দেড় মাসের মধ্যে পাকা বাড়ী করে দেওয়ার কথা বলেন আসমা বেগম। তার জন্য মহরানীর কাছে ১৫,০০০ টাকা চান আসমা বেগম। মহরানী সুদে ১৪,০০০ টাকা উত্তোলন করে ও আসমা বেগমকে দিতে রাজি হয়।

পরবর্তীতে আসমা বেগম তার সহযোগী কমলাকে মহরানীর বাড়ীতে পাঠায়। তখন মহরানী আসমা বেগমকে ফোন করলে সে কমলার কাছে টাকা দিয়ে দিতে বলে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলে মহরানী আসমা বেগমের কাছে গেলে সে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে। বার বার তাগিদ দেওয়ার পর বাধ্য হয়েই ৫০০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন আসমা বেগম। 

এবিষয়ে চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও তেমন কোন ফলাফল পাননি ভুক্তভোগী মহরানী বেগম। এভাবে দুই বছর পার হয়ে গেলেও টাকা বা ঘর কোনটিই পাননি মহরানী বেগম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বামী,এক ছেলে, ছেলের বউ ও ৩ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধি ২ যমজ নাতি নিয়েই মহরানীর অভাবের সংসার।

স্বামী  ছেলে ও নিজে কষ্টে দিন যাপন করেন তারা। মাথা গোজার মত ছোট্ট একটি দোচালা টিনের ঘর ও একটি পুরনো ভাঙা চারচালা ঘর রয়েছে।

মহরানী বেগম বলেন, ” আমি গরিব মানুষ। আসমা মেম্বার আমাকে বলে ইউনিয়নে সরকারী ভাবে পাকা ঘর আসছে। ১৫,০০০ টাকা দিলে তোমাকে পাইয়ে দিব। আমি ১৪,০০০ টাকা দিতে রাজি হই। পরে আমি সুদি করে টাকা আনি। আসমা মেম্বার কমলাকে আমার বাড়ি পাঠায় টাকা নেওয়ার জন্য। তখন আমি আসমা মেম্বারকে ফোন দিলে কমলার কাছে টাকা দিয়ে দিতে বলে। পাকা বাড়ী করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৪,০০০ টাকা সহ বাড়ীর জমির দলিলের ফটোকপি,জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে যায়। দেড় মাসেই ঘর পাবার কথা বলে। কিন্তু দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমি ঘর পাইনি। টাকার কথা বলতে গেলে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আর বলে টাকা যাকে দিছো তার কাছ থেকে নিবা। আমার নাম করে কেউ টাকা নিলে আমি দায়ি নাকি। আমার হাতেতো আর টাকা দাও নাই।”

এবিষয়ে আসমা বেগম বলেন, ” আমি কোন টাকা নেইনি। তাকে আমার সামনে এসে বলতে বলেন। সে টাকা দিয়েছে কমলাকে। কমলা বিদেশ গেছে। আমার নাম করে কমল টাকা আনলে আমার কি দোষ।টাকাতো আমি নেইনি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.