স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:

পদোন্নতির জন্য নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব মাসুদুল হক। বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী স্বাক্ষরিত আধা সরকারীপত্র (ডিও লেটার) মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেয়া হয়েছে।পদোন্নতির জন্য এভাবে ডিও দেয়া সরকারী চাকুরীবিধিমালা পরিপন্থী।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেয়া ডিও লেটারে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের উপসচিব মাসুদুল হককে সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চাকুরীজীবনের শুরু থেকে বর্তমান কর্মস্থলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।তার বিরুদ্ধে সহকর্মী ও জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে অসদাচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে। দেশের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে মাসুদুল হক বিভাগীয় মামলা ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যক্তিজীবনেও তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। কিছুদিন পূর্বে তৃতীয় স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন মাসুদুল হক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের যোগ্যতা নিয়ে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন মাসুদুল হক। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে যদি বুলগেরিয়ার মতো অপরাধের জন্য মন্ত্রীদের বহিষ্কারের রীতি প্রচলন করা হয়, তবে কোনো মন্ত্রী এক সপ্তাহের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’ এ পোস্টকে কেন্দ্র করে তখন বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে তিরস্কারের সাজা দেয়া হয়।

ফেসবুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে পোস্ট দেন। অথচ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ডিও লেটারে উপ সচিব মাসুদুল হকের পিতাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়ে শারীরিকভাবে অত্যাচারিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা শিষ্ঠাচার বর্হিভূত এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় সংসদে সংসদ উপনেতার দপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় স্পিকারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সংসদের কাজে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং বদলির নির্দেশ দেয়া হয়।শিশু শিল্পীদের সাথে অসদাচারণের কারণে মাসুদুল হককে ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জেনারেল ম্যানেজারের পদ থেকে তাকে বদলি করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের

উপসচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পদ আঁকড়ে থাকায় পরবর্তীতে মাসুদুল হককে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়।

ডিও লেটারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদার আকবর লাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর মা এখন শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। তিনি কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকেও বিরত আছেন। ডিও লেটারের স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর পদোন্নতির জন্য এভাবে ডিও লেটার দেয়া বিধিসম্মত নয় মন্তব্য করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

ডিও লেটার দেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: আনিছুর রহমান মিঞা মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এবিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার জনপ্রশাসন সচিব মহোদয়ের বলে তিনি জানান। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজমকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপসচিব মাসুদুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, ‘আমার পদোন্নতির জন্য কেউ চিঠি দিয়েছে কিনা, আমার জানা নেই। কেউ সুপারিশ করলে তার ইচ্ছে অনুযায়ী করেন। আমি আমার জায়গায় স্বচ্ছ আছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.