রাম বসাক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

 প্রকৃতিতে এসেছে শীতের ছোঁয়া শীতকাল গ্রামের মানুষের জীবনজীবিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের সকল উপজেলায় কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা তাঁরা এর মধ্যেই খেজুরগাছগুলোর পুরোনো ডালপালা কেটে পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন করছেন ইতোমধ্যে শুরু হবে খেজুরের রস আহরণ সরেজমিনে গিয়েজানা যায়, গ্রামীণ জীবনে গাছিদের কাছে শীত আসে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে অনেক স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে খেজুরগাছের সঙ্গে তাঁদের এই সময়টা কেটে যায় দিনের বেশির ভাগ সময় পার হয় এক গাছ থেকে অন্য গাছে শীতের তীব্রতা দেখা না দিলেও এরই মধ্যে উপজেলায় অনেক গাছি খেজুরের রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন এলাকার গাছিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসেছেন গাছিরা খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন রস সংগ্রহের জন্য গাছি সাহিনহোসেন বলেন, ‘খেজুরগাছ অল্প বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে ৩০৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত রস দেয় তবে গাছ যতই পুরোনো হয়, রস দেওয়া ততই কমে যায় পুরোনো গাছ রস কম দিলেও পুরোনো গাছের রসগুলো খুবই মিষ্টি সুস্বাদু হয় মাঝ বয়সের গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ রস পাওয়া যায়তিনি আরও বলেন, রস সংগ্রহের জন্য সাধারণত কার্তিক মাসে খেজুরগাছ পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয় অগ্রহায়ণ মাস থেকেই রস পাওয়া যায় রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত আবার শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে শীত যত বেশি পড়বে, গাছ থেকে রস তত বেশি ঝরবে এতে রসের স্বাদও ততই মিষ্টি হবে অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভরা মৌসুম অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত স্থানভেদে একটি খেজুরগাছে মাসে ৪০৫০ কেজি রস পাওয়া যায় আগাম খেজুরগাছ পরিষ্কার করার সময় নন্দলালপুরের আবুল হোসেন বলেন, শীতের শুরুতে রস পাওয়া গেলে দাম অনেক বেশি পাওয়া যায় আমাদের সংসার চলে রস বিক্রি করে খেজুরগাছ কাটতে সাধারণত লোহা দিয়ে তৈরি হাসুয়া, দা, দড়ি লাগে আবার দা রাখার জন্য বাঁশ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এক প্রকার থলির প্রয়োজন হয় সেই থলি গাছিরা রশি দিয়ে কোমরে বেঁধে খুব যত্নে দা রেখে এই গাছ থেকে সেই গাছে ওঠানামা করেন গাছ কাটার জন্য গাছিরা শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোমর বরাবর গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নেন দড়িটা বিশেষভাবে তৈরি করা হয় এই দড়ির দুই মাথায় বিশেষ কায়দায় গিঁট (বাঁধন) দেওয়া থাকে গাছে ওঠার সময় গাছি অতি সহজে মুহূর্তের মধ্যে গিঁট (বাঁধন) দুটি জুড়ে দিয়ে নিজের জন্য গাছে ওঠার নিরাপদ ব্যবস্থা করে নেন গাছিরা জানালেন, তারা খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেন টাকা দিয়ে অথবা গুড় দিয়ে প্রতিটি খেজুর গাছের জন্য কেজি করে পাটালি গুড় দিতে হয়সিরাজগঞ্জ জেলার সকল উপজেলার সর্বত্র অসংখ্য খেজুর গাছ রয়েছে শতাধিক গাছি এসকল খেজুর গাছে রস সংগ্রহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে বাজারে উঠবে নতুন পাটালি আর ঝোলা গুড়

Leave a Reply

Your email address will not be published.